Description
পলাশীর প্রান্তরে ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌল্লার পরাজয়ের পরই কি বাংলার নবাবী ইতিহাসের অবসান ঘটেছিল? ইতিহাসের প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে ফারুক আব্দুল্লাহর এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘সিরাজউদ্দৌলার পরে: নবাবদের কথা (১৭৫৭–২০১৪)’ আমাদের নিয়ে যায় এক বিস্মৃত অথচ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের ভেতরে।
এই বইয়ে লেখক দেখিয়েছেন, সিরাজউদ্দৌলার পতনের পরেও বাংলার নবাবী শাসন পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। মীরজাফর, মীরকাশিম থেকে শুরু করে নাজাফি বংশের শেষ উত্তরাধিকারী আব্বাস আলি মির্জা পর্যন্ত নবাবদের রাজনৈতিক উত্থান-পতন, ক্ষমতার লড়াই ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত বিশদ ও তথ্যভিত্তিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
গ্রন্থটিতে ব্রিটিশদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ষড়যন্ত্র, নবাবদের অসহায়তা, ক্ষমতার নামে চলা বঞ্চনা এবং রাজনীতির অন্দরমহলের নির্মম বাস্তবতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। একসময় বাংলার ঐশ্বর্যের প্রতীক মুর্শিদাবাদ কীভাবে ধীরে ধীরে তার গৌরব হারাল, সেই ইতিহাস এখানে বস্তুনিষ্ঠ দলিলের মাধ্যমে উপস্থাপিত।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো হাজারদুয়ারি প্রাসাদের নির্মাণ ইতিহাস এবং নবাব পরিবারের সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থার বিশ্লেষণ। এই বই শুধু রাজশক্তির ইতিহাস নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া এক অভিজাত সংস্কৃতি, অপমানিত উত্তরাধিকার এবং ঔপনিবেশিক শাসনের ছায়ায় টিকে থাকার লড়াইয়ের এক প্রামাণ্য নথি।
বাংলার ইতিহাস, নবাবী শাসন, ব্রিটিশ আমল কিংবা মুর্শিদাবাদের হারানো গৌরব সম্পর্কে যাঁরা গভীরভাবে জানতে চান, তাঁদের জন্য ‘সিরাজউদ্দৌলার পরে’ একটি অপরিহার্য গ্রন্থ। গবেষক, ইতিহাসপ্রেমী পাঠক ও বাংলা ইতিহাসের বই সংগ্রহে আগ্রহীদের বইয়ের তাকের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। Sirajuddoular Pore








Reviews
There are no reviews yet.