Description
দুধে-ভাতের মতো মাছ-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্নও বাঙালির জীবনযাপনের অঙ্গ। বাঙালি চিরকালের মৎস্যভোজী। প্রাচীন সাহিত্যে তার এই আমিষ আসক্তির পরিচয় আঁকা আছে। শুধু মাছ কেন, তার সঙ্গে আছে মাংসও। রোজকার পাতে একটু আমিষের ছোঁয়া বাঙালির প্রতিদিনের বাসনা। রেণুকা দেবী চৌধুরানীর ‘রকমারি আমিষ রান্না’ সেই আমিষাশী বাঙালির বিচিত্র রসনালিপি। অত্যন্ত যত্ন ও নিষ্ঠার সঙ্গে হরেকরকমের আমিষপদ নিজের হাতে রেঁধে তাদের প্রয়োগ-প্রণালী লিখে রেখেছিলেন লেখিকা। মাছ, মাংস ও ডিমের এত রকমের পদ যে হতে পারে তা এর আগে বোধহয় এমন বিস্তৃতভাবে কেউ জানাননি। এই বইয়ে মাছরান্নার যত প্রণালী ও বৈচিত্র্য আছে তার সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশোর মতো। মাংস আর ডিমের পদও প্রায় সমপরিমাণ। অর্থাৎ মাছ-মাংস-ডিম মিলিয়ে প্রায় ছশো রকমের আমিষরান্নার এক অভাবনীয় আয়োজন এই বইয়ে। লেখিকা ছিলেন পূর্ববঙ্গের গৃহবধূ। ফলে, মাছরান্নার রকমফেরে তিনি চমকে দিয়েছেন। রুই-কাতলা তো আছেই, সেই সঙ্গে ছোট কুঁচো মাছ আর ইলিশ-চিংড়ির যে-সব পদের কথা তিনি লিখেছেন তা একালে একেবারেই অভিনব। মাংসের মধ্যে মটন-চিকেনের পাশে এসেছে হরিণ-পায়রা-হাঁস কচ্ছপ। হরিণ কিংবা কচ্ছপের মাংস এখন নিষিদ্ধ। তবে রন্ধন-শিল্পের ইতিহাসে থেকে গেল বাঙালির রসনা-তৃপ্তির সেই ব্যঞ্জন-উৎসব।








Reviews
There are no reviews yet.