ইতিহাস বড়ো নির্মম। সে কখনো কখনো সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গকে আড়াল করে চোরাবালির জয়গান গায়, আবার কখনো কোনো প্রদীপ্ত সূর্যের চারপাশে সুপরিকল্পিত অন্ধকারের জাল বুনে তাকে সাম্প্রদায়িকতার মেঘে ঢেকে দিতে চায়।
কিন্তু সত্যের নিজস্ব এক আলো আছে, যা সময়ের আবরণ ভেদ করে একদিন-না-একদিন প্রকাশ পাবেই। স্বাধীন ভারতের এবং বিশেষ করে আজকের পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের তেমনই এক উপেক্ষিত, অথচ সবচেয়ে দেদীপ্যমান ধ্রুবতারার নাম- ভারতকেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।
কংগ্রেসের তোষণ নীতির প্রতিবাদে ক্ষমতার মোহকে এক ঝটকায় ছুড়ে ফেলা, ১৯৫১ সালে এক নতুন রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে ‘ভারতীয় জনসংঘ’- এর জন্ম দেওয়া, আর পরিশেষে কাশ্মীরের বিশেষ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাড়িয়ে ‘এক দেশে দুই প্রধান, দুই বিধান আর দুই নিশান চলবে না’ স্লোগানে দিল্লির দরবার কাঁপিয়ে দেওয়া; তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় যেন কোনো কাল্পনিক উপন্যাসের চেয়েও রোমাঞ্চকর, মহাকাব্যিক এবং ট্র্যাজিক। ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন শ্রীনগরের এক নির্জন কারাগারে যখন রহস্যজনক পরিস্থিতিতে এই মহানায়কের জীবনপ্রদীপ নিভে যায়, তখন কাশ্মীর সীমান্ত কেবল একজন মানুষকে হারায়নি, ভারত হারিয়েছিল তার অখণ্ডতার সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্রহরীকে।
দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির উন্নাসিক ও সুবিধাবাদী বুদ্ধিজীবী ক্ষমতার অলিন্দে বসে তাঁর গায়ে সাম্প্রদায়িকতার কাদা ছেটানোর মরিয়া চেষ্টা করে গেছেন। কিন্তু ইতিহাস আজ তাঁর অধিকার ফিরে পেয়েছে। এই উপন্যাস কোনো কল্পকাহিনির সস্তা বিনোদন নয়; এ হল এক ঋষিতুল্য দেশপ্রেমিকের ক্ষমতার লালসাকে তুচ্ছ করে স্বজাতির অস্তিত্ব রক্ষার ঢাল হয়ে ওঠার জীবন্ত দলিল।











Reviews
There are no reviews yet