‘পদ্মযোনি’ (Padmayoni) শুধুমাত্র একটি উপন্যাস নয়, এটি ভারতীয় সমাজ, ইতিহাস এবং নারীর অস্তিত্ব-সংগ্রামের এক গভীর দলিল।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের শেষ মাহারি দেবদাসী শশীমণি দাসীর জীবনের বাস্তব অনুপ্রেরণায় রচিত এই উপন্যাসে উঠে এসেছে এক বিস্মৃত অধ্যায়। ১৯৩০ সালে জগন্নাথ মন্দিরে দেবদাসী হিসেবে উৎসর্গিত শশীমণি, যিনি ভগবানের স্ত্রী হিসেবে জীবনযাপন করতে বাধ্য হন, তাঁর জীবনকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে কাহিনির মূল স্রোত।
অন্যদিকে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির মায়লাপুর সুন্দরেশ্বর শিবমন্দির থেকে পালিয়ে আসা তিন কিশোরী দেবদাসীর গল্প পাঠককে পরিচয় করিয়ে দেয় দেবদাসী প্রথার অন্ধকার, শোষণ ও মানবেতর বাস্তবতার সঙ্গে। শিবাঙ্গী, ম্রুণাল, পতিতপাবন পণ্ডা, বিশ্বকর্মা মহারাণা প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে লেখক নির্মাণ করেছেন এক বিস্তৃত সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময়। মহাত্মা গান্ধী, ই. ভি. রামস্বামী পেরিয়ার, রাজা গোপালাচারি, সরোজিনী নাইডু এবং ডঃ মুথুলক্ষ্মী রেড্ডির মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি কাহিনিকে দিয়েছে অতিরিক্ত গভীরতা ও বাস্তবতা।
দেবদাসী প্রথা বিলোপ আন্দোলন, নারীর স্বাধীনতা, ধর্মীয় প্রথার অন্তর্লীন রাজনীতি এবং মানবিক সম্পর্কের জটিলতা সব মিলিয়ে ‘পদ্মযোনি’ বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপন্যাস।
যাঁরা ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস, সমাজবাস্তবতার গল্প, নারীর সংগ্রাম এবং ভারতীয় সংস্কৃতির অজানা অধ্যায় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এই বইটি অবশ্যপাঠ্য।











Reviews
There are no reviews yet.