২০১০ সালের সফল এভারেস্ট অভিযান আমার জীবনকে পুরোপুরি অন্য খাতে বইয়ে দিল। এভারেস্ট যাবার আগে তো ভেবেছিলাম এভারেস্ট অভিযান শেষে আরোহণই ছেড়ে দেবো। কিন্তু ফিরে আসার পর জীবনের গতিপথ পুরোপুরি ১৮০° পাল্টে গেল। আগে যে সাদামাটা সাধারণ এক নিশ্চিন্ত জীবন ছিল, এভারেস্ট থেকে ফিরে এসে আর সেই জীবনটা থাকল না। ততদিনে পর্বতারোহনে তৈরি হয়ে গেছে এক নতুন ইতিহাস। প্রতিদিনই আমাকে ছুটে যেতে হতো এক অনুষ্ঠান থেকে আরেক অনুষ্ঠানে। শোনাতে হতো এভারেস্টের অসংখ্য খুঁটিনাটি গল্প। দেখাতে হতো অভিযানের ছবি। আর এর মাঝে অবশ্যম্ভাবী ভাবে যে প্রশ্নটা ধেয়ে আসতো তা হলো, এরপর কি? কোথায় যাচ্ছ পরের বছর? আমি বলতেই পারলাম না যে আমি ভেবে রেখেছিলাম এভারেস্টের পর অভিযান ছেড়ে দেবো। আমার অভিযান নিয়ে সবার এত উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে সেসব প্রশ্নের উত্তরে আমার অজান্তেই যেন বলতে শুরু করলাম, এবার যেমন আপনারা ডাকছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, শুনতে চাইছেন এভারেস্টের অনেক অনেক গল্প, দেখতে চাইছেন অভিযানের ছবি, পরের বছরও আপনারা একইভাবে আমাকে ডাকতে বাধ্য হবেন, কারণ তখন সফল কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযান সেরে ফিরব কাঞ্চনজঙ্ঘার গল্প নিয়ে, কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি নিয়ে। থামা হল না। ঠিক করে বলতে গেলে বলতে হয় আশেপাশের সমস্ত পর্বতপ্রেমীদের দাবি আমাকে থামতে দিল না। অসংখ্য অনুরাগীদের আবদারে পরের বছর গেলাম কাঞ্চনজঙ্ঘা। এবার দীর্ঘ ৬২ দিনের ভয়ংকর লড়াইয়ের শেষে ২০২১ এর ২০শে মে প্রথম অসামরিক ভারতীয় হিসাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা আরোহণ করে ফেললাম। এরপর থেমে যাবার কথা আর ভাবলাম না। পরের বছর দশম উচ্চতম শৃঙ্গ – অন্নপূর্ণা, সেটাও আরোহণ হল। ২০১৩ তে গিয়েছিলাম সপ্তম উচ্চতম ধৌলাগিরি। কিন্তু তুষার ঝড়ের জন্য শীর্ষের একদম কাছে পৌঁছেও আরোহণ হল না। অন্য দলের দুই আরোহী ও এক শেরপার মৃত্যু হলেও আমি আর আমার সঙ্গী বসন্ত সিংহ রায় কোনমতে ফিরে আসতে পারি। স্নো ব্লাইন্ডনেসে আমি সাময়িকভাবে অন্ধ হয়ে যাই। তুষারক্ষতে বসন্তদার পায়ের আঙ্গুল বাদ যায়। এরপরের কোন আটহাজার মিটার শৃঙ্গে আর তাকে সাথী হিসেবে পাই না। ২০১৪ তে পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ মাকালু অভিযানে যাই এবং সাফল্যের সাথে আরোহণ করি। পরের বছর যাই তিব্বতের দিক থেকে পৃথিবীর ষষ্ঠ উচ্চতম শৃঙ্গ চোয়ু অভিযানে। মূল শিবির ছাড়িয়ে উঠে গিয়েছিলাম উপরের ক্যাম্পে, কিন্তু সে সময়েই ২৫শে এপ্রিল, ২০১৫ শনিবার বেলা প্রায় পৌনে বারোটা নাগাদ এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে মধ্য নেপাল সহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। হিমালয়ের সমস্ত অভিযান বাতিল হয়ে যায়। অভিযান অসম্পূর্ণ রেখেই ফিরে আসতে বাধ্য হই। সে বছরই সেপ্টেম্বর মাসে ফের বেরিয়ে পড়লাম, উদ্দেশ্য পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ – মানাসলু। Manaslu Moner shringa Abhijan

Weight 0.7 kg
Dimensions 18 × 12 × 2 cm
Author Name

Binding

Hardcover

Product Language

Bengali

Publisher

Publishing Year

2025

Reviews

There are no reviews yet

Only logged in customers who have purchased this product may leave a review.

Recently Viewed

Manaslu Moner shringa Abhijan || Debashish Biswas || মানাসলু মনের শৃঙ্গ অভিযান || দেবাশিস বিশ্বাস
Original price was: ₹400.00.Current price is: ₹300.00.

50 in stock