বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন কিছু উপন্যাস রয়েছে, যেগুলি কেবল সাহিত্য নয়, সমাজ ও ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ‘দেবী চৌধুরাণী’ (Devi Chaudhurani) সেই ধরনেরই এক অমর সৃষ্টি, যার রচয়িতা সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
প্রফুল্ল- এক সাধারণ, নিরীহ এবং অসহায় গৃহবধূ। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়ায় সে। কিন্তু নিয়তির অদ্ভুত খেলায় তার সাক্ষাৎ ঘটে বিদ্রোহী নেতা ভবানী পাঠকের সঙ্গে। সেখান থেকেই শুরু হয় এক নারীর অবিশ্বাস্য রূপান্তরের ইতিহাস।
অস্ত্রচর্চা, শৃঙ্খলা, আত্মসংযম এবং নিষ্কাম কর্মযোগের শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে প্রফুল্ল হয়ে ওঠে বাংলার কিংবদন্তি দেবী চৌধুরাণী। অত্যাচারী জমিদার ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে তার সাহসী সংগ্রাম তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আশার প্রতীক এবং শোষকদের কাছে আতঙ্কে পরিণত করে।
কিন্তু বাহ্যিক শক্তির আড়ালে তার অন্তরে কি আজও লুকিয়ে আছে সেই কোমল প্রফুল্ল? অতীতের ভালোবাসা, স্বামী ব্রজেশ্বরের স্মৃতি এবং কর্তব্যের কঠিন আহ্বানের মধ্যে কোন পথটি বেছে নেবে সে?
বঙ্কিমচন্দ্রের অসাধারণ ভাষাশৈলী, শক্তিশালী চরিত্র নির্মাণ এবং সমাজ-ইতিহাসের অনবদ্য মেলবন্ধন এই উপন্যাসকে বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। নারীশক্তি, আত্মমর্যাদা, দেশপ্রেম, ন্যায়বোধ এবং আত্মত্যাগের এক অসামান্য কাহিনি হিসেবে ‘দেবী চৌধুরাণী’ (Devi Chaudhurani) আজও প্রতিটি পাঠকের সংগ্রহে থাকার মতো একটি বই।
যারা বাংলা ক্লাসিক সাহিত্য, ঐতিহাসিক উপন্যাস, সমাজচেতনা এবং শক্তিশালী নারীচরিত্রের গল্প পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য দেবী চৌধুরাণী (Devi Chaudhurani) |














Reviews
There are no reviews yet.