‘চন্দ্রজাল’(Chandrajal) শুধুমাত্র একটি উপন্যাস নয়, এটি অস্তিত্ব ও শূন্যতার মধ্যকার এক গভীর দার্শনিক অনুসন্ধান। পুরাণের আঙ্গিকে নির্মিত হলেও এটি প্রচলিত অর্থে কোনো পৌরাণিক কাহিনি নয়। এখানে দেবতা ও অপদেবতারা চরিত্র হিসেবে উপস্থিত নয়; তারা প্রতীক, দর্শন এবং চেতনার বিভিন্ন রূপ।
এই উপন্যাসে অম্বিকা এখনো কোনো দেবী নন। তিনি মৃত্যুশক্তির উপাসক, যিনি সমাপ্তি ও বিলুপ্তির দর্শনকে ধারণ করেন। অন্যদিকে অরণ্য কোনো ঈশ্বর নন; তিনি সৃষ্টির ধারাবাহিকতা, প্রবাহ এবং টিকে থাকার প্রতীক। তাদের ভালোবাসা মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেয় না, আবার তাদের সংঘাতও ন্যায় ও অন্যায়ের সীমানা নির্ধারণ করে না। বরং তাদের সম্পর্ক ও দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় সৃষ্টি ও ধ্বংস, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি, অস্তিত্ব ও শূন্যতার চিরন্তন সংঘর্ষ।
‘চন্দ্রজাল’ (Chandrajal) -এ ব্ল্যাকহোল, ওয়ার্মহোল এবং শূন্যতার মতো ধারণাগুলোকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহার করা হয়নি। এগুলো এখানে রূপক, প্রতীক এবং চিন্তার সীমান্তরেখা। এমন এক জায়গা, যেখানে যুক্তির পথ শেষ হয়ে যায় এবং প্রতীকের ভাষা কথা বলতে শুরু করে।
উপন্যাসটি পাঠককে একের পর এক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। সবকিছুর শেষ যদি শূন্যতায় গিয়ে মিশে যায়, তবে জীবন, ভালোবাসা, সংগ্রাম কিংবা যাত্রার অর্থ কী? মানুষের অস্তিত্ব কি শুধুই ক্ষণস্থায়ী এক ভ্রম, নাকি সেই ভ্রমের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অর্থের সন্ধান?
অভীরের ‘চন্দ্রজাল’ (Chandrajal) মূলত একটি নাস্তিক মাইথোলজি যেখানে বিশ্বাসের পরিবর্তে প্রশ্ন, অলৌকিকতার পরিবর্তে প্রতীক এবং চূড়ান্ত উত্তরের পরিবর্তে চিন্তার দরজা খুলে দেওয়াই মুখ্য। দর্শন, প্রতীকবাদ, পৌরাণিক রূপক এবং গভীর অস্তিত্ববাদী চিন্তাধারায় আগ্রহী পাঠকদের জন্য এটি একটি অনন্য পাঠ-অভিজ্ঞতা।











Reviews
There are no reviews yet.