অরণ্য, বন্যপ্রাণ এবং মানুষের সহাবস্থানের ইতিহাস যত পুরনো, ততই পুরনো শিকার ও সংরক্ষণের সম্পর্ক। চাণক্যের সময় থেকেই অভয়ারণ্যের ধারণা প্রচলিত ছিল। একদিকে যেমন মৃগয়া ছিল রাজকীয় ক্রীড়া, অন্যদিকে জীবজন্তুর সুরক্ষার ব্যবস্থাও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ।
‘আজমলমারির নরখাদক’ (Ajmolmarir Narakhadok) বইটিতে লেখক চন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, বনাঞ্চলের পরিবর্তন এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। আধুনিক সভ্যতার বিস্তার, বনভূমি ধ্বংস এবং চোরাশিকারের ফলে বহু প্রাণী আজ বিলুপ্তির পথে। সেই প্রেক্ষাপটে এই বইয়ের কাহিনিগুলি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বইটির অন্যতম আকর্ষণ কলকাতার শেষ শিকারি জুটি রঞ্জিত মুখার্জি ও চঞ্চল সরকারের দুঃসাহসিক অভিযান। সরকারি নির্দেশে তাঁরা বারবার জীবন বাজি রেখে ছুটে গিয়েছেন নরখাদক বাঘ ও পাগলা হাতির মোকাবিলা করতে। তাঁদের সাহসিকতা এবং বুদ্ধিমত্তার ফলে অসংখ্য মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা, অরণ্যের রহস্য, বিপদের মুখোমুখি হওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর জটিল সম্পর্কের বিশ্লেষণ। ফলে বইটি শুধুমাত্র শিকার কাহিনি নয়, বরং প্রকৃতি, সংরক্ষণ এবং মানবিক দায়িত্ববোধের এক মূল্যবান দলিল।
যারা অভিযান, অরণ্য, বন্যপ্রাণী, শিকার কাহিনি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে লেখা বাংলা বই পড়তে ভালোবাসেন, তাদের জন্য আজমলমারির নরখাদক (Ajmolmarir Narakhadok) একটি অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ।












Reviews
There are no reviews yet.