Description
উনবিংশ শতকের মধ্যভাগ। ভারতীয় উপমহাদেশ তখনও রানি ভিক্টোরিয়ার সরাসরি শাসনাধীন হয়নি। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সদ্যনিযুক্ত গভর্নর লর্ড ডালহৌসি, যুদ্ধ কিংবা আইনি ছলনায় উপমহাদেশের স্বাধীন এবং করদ রাজ্যগুলো একের পর এক কোম্পানির শাসনের আওতায় আনছেন। কয়েকটি স্থানীয় কৃষক বিদ্রোহ ছাড়া তেমন জোরদার প্রতিবাদ তখনও দানা বাঁধেনি। উপমহাদেশের গোটাটা কব্জায় আনতে প্রয়োজন দ্রুততর যোগাযোগব্যবস্থার। কোম্পানির শাসনস্বার্থে উপমহাদেশে রেলব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। রেল চালাতে কয়লা প্রয়োজন, তাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বসল কোল কমিটি। দামোদর উপত্যকা জুড়ে শুরু হল কয়লার খোঁজ। ১৮৫১ সালের মার্চে ডাবলিন থেকে এক আইরিশ অধ্যাপক ভারতে এলেন কয়লার খোঁজে। লর্ড ডালহৌসির কাছে প্রস্তাব দিলেন অনুসন্ধান করলে কয়লা ছাড়াও তামা, লোহা, সোনা, দস্তা এমনকি খনিজ তেলও পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রের। শুরু হল ভারতীয় ভূখণ্ড জুড়ে মানচিত্র নির্মাণের কাজ। প্রায় তিরিশ বছর বাদে ১৮৮০ সালে ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধান দলে যোগ দিলেন প্রথম নেটিভ অফিসার প্রমথ নাথ বোস। তাঁর আবিষ্কৃত দুটি প্রাকৃতিক লোহা ভাণ্ডারের একটিকে ব্যবহার করে ১৯১১ সালে সম্পূর্ণ দেশীয় উদ্যোগে সাকচি অঞ্চলে নির্মিত হল প্রথম লোহা-ইস্পাত কারখানা। আধুনিক সভ্যতার নিরিখে কোনও দেশের অগ্রগতি সেদেশের লোহা উৎপাদন ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। এক পরাধীন দেশের মুষ্টিমেয় কয়েকজন অনন্যসাধারণ মানুষ, বিদেশি অনুদানের তোয়াক্কা না করে যে অভূতপূর্ব আবেগকে কাজে লাগিয়ে এদেশের মাটিতে প্রথম কারখানার চাকা ঘোরাতে পেরেছিলেন। ১৮৫১-১৯১১, সহজ ছিল না এই ষাট বছরের যাত্রাপথ। চাকার ঘোরার আগের সেই ষাট বছরের বিস্মৃত সময় সজীব হয়ে উঠেছে এই উপন্যাসে।






51 Pith || Himangshu Chattopadhyay
Reviews
There are no reviews yet.