Description
মহাদেব করুণাঘন স্বরে বললেন, “চন্দ্রের আলোক যেমন সূর্যদেবের দান, তেমন চন্দ্রবংশও সূর্যবংশের দান হতে হতো যে সুদ্যম্ন। তোমার গর্ভে চন্দ্রপুত্র বুধের যে সন্তান জন্মগ্রহণ করবেন …তিনিই হবে চন্দ্রবংশের প্রথম পুরুষ। ”
“আমার নারীদেহে বা নারীজন্মে কোনো আপত্তি নেই মহাদেব। এ আকস্মিক বিস্ময়ও কেটে যাবে। কিন্তু পুরুষদেহ নিয়ে আমি কি করে সন্তান ধারণ করব গর্ভে? ”
মহাদেব আশ্বাস দিলেন।
“যে মুহুর্তে তুমি মহাদেবীর গবেষণাক্ষেত্র নলবনে প্রবেশ করেছিলে, সে মুহুর্তে মহাদেবী তোমার অচৈতন্য দেহের পুরুষ ও স্ত্রীবৈশিষ্ট্য একত্রে সক্রিয় করে দিয়েছেন। তুমি একই দেহে গর্ভাশয় ও শুক্রাশয় ধারণ করবে। তোমার সন্তান হবে পুরুরবা, চন্দ্রবংশের প্রথম মানুষ। ”
সুদ্যম্ন দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে সৌম্যের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। হাত জোড় করে বললেন, “দেব বুধ, আমাকে মার্জনা করবেন …”।
সৌম্য সুদ্যম্নের হাত ধরে ফেললেন, “আমি দেব নই …আমি সৌম্য, আপনার পরম মিত্র সৌম্য।আজ থেকে সমগ্র জ্যোতির্বিজ্ঞান আপনাকে আমি শেখাব আর তার পরিবর্তে আপনি আমাকে মানব মনস্তত্বের সবকটি দিক সম্বন্ধে প্রশিক্ষণ দেবেন। ”
সুদ্যম্ন আশ্চর্য হলেন, “দেবতা হয়ে আপনি মানব মনস্তত্ব শিখবেন কেন! ”
সৌম্য মহাদেব ও মহাদেবীর দিকে তির্যক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, “মানুষ ভালোবাসতে জানে সুদ্যম্ন, দেবতার মত সে স্বার্থপর নয়। ”
মহাদেব, মহাদেবী হাসতে হাসতে আকাশযানগুলির দিকে এগিয়ে গেলেন হাসতে হাসতে।মহাদেবের যানটিতে দুজনে ওঠার পর মহাদেবী কটাক্ষ হেনে জিজ্ঞাসা করলেন, “কি হে মদনভস্মকারী ভয়াল তাপস, জানো ভালোবাসতে? ”
মহাদেব দেবীর সর্বাঙ্গের একান্নটি কাটা দাগ হাত দিয়ে একে একে স্পর্শ করে বললেন, “জানিনা মহাদেবী, জানি না। ”
আকাশপথে উল্কার মত ছুটে গেল আকাশযানদুটি। মাটির বুকে একটি ত্রিতল গৃহ আজ ফুলে ফুলে সেজে উঠবে রাতে। পরম দুই মিত্র রসালাপে, হাস্যে হয়ে উঠবেন একাত্ম। আর চন্দ্র আজ সরস্বতীতে নামবেন অবগাহনে। ”
কী করে চন্দ্রবংশের শুরু হলো ধরায়? সেই পৌরাণিক আখ্যানকে এক নতুন চোখে দেখার রূপ হলো ‘এলা ‘।
ঠিকানা একলব্য প্রকাশন থেকে প্রকাশিত কর্ণ শীল বিরচিত গ্রন্থ “ঈশ্বরদহন “। Iswardahan









Reviews
There are no reviews yet.