১৮৮৭ সালের ২৫শে মে। হাওড়া থেকে পুরীর উদ্দেশ্যে রওনা হয় এক বিশাল তীর্থযাত্রীবাহী জাহাজ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রবল সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ে সেই জাহাজ ডুবে যায় বঙ্গোপসাগরের জলে। প্রাণ হারান প্রায় সাড়ে সাতশো মানুষ, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন সাধারণ দেশীয় নারী। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাই হয়ে ওঠে দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের বহুল প্রশংসিত ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘নারাচ’ (Narach) -এর অন্যতম ভিত্তি।
এই উপন্যাস পাঠককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় উনবিংশ শতকের বাংলায় এক এমন সময়ে যখন নবজাগরণের আলোয় আলোকিত হচ্ছে সমাজ। একদিকে নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তির লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়, অন্যদিকে নির্বাসিত নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ মেটিয়াবুরুজে গড়ে তুলছেন লক্ষ্ণৌয়ের সংস্কৃতির এক নতুন কেন্দ্র।
কিন্তু এই উজ্জ্বল ইতিহাসের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রান্তিক মানুষের বঞ্চনা, দুঃখ ও সংগ্রামের কাহিনি। কৃষ্ণসুন্দর, ভুবনমণি এবং তাঁদের মতো বহু অবহেলিত মানুষের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলে উপন্যাসের মূল স্রোত। তাঁদের আশা, হতাশা, বেঁচে থাকার লড়াই এবং মানবিকতার গল্প পাঠকের হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
দেবারতি মুখোপাধ্যায় তাঁর সাবলীল ভাষা, সুগভীর গবেষণা এবং শক্তিশালী গল্প বলার ক্ষমতার মাধ্যমে ইতিহাসের বিস্তীর্ণ ক্যানভাসে এক জীবন্ত যুগকে তুলে ধরেছেন। বাস্তব ঘটনা, সামাজিক ইতিহাস এবং মানবিক আবেগের অপূর্ব সংমিশ্রণে ‘নারাচ’ (Narach) বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের জন্য এক স্মরণীয় পাঠ-অভিজ্ঞতা।
যাঁরা ঐতিহাসিক উপন্যাস, সমাজবাস্তবতা এবং মানবিক মূল্যবোধে ভরপুর সাহিত্য পড়তে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য ‘নারাচ’ (Narach) |













Reviews
There are no reviews yet