Description
বাঙালির সাহিত্য ও সামাজিক ইতিহাসের পরিব্যাপ্তির মধ্যেও খাদ্যাভ্যাস ও রসনারুচির পদচিহ্ন খুঁজতে গেলে বেশ গভীরে ডুব দিতে হয়। সারা বিশ্বেই খাওয়াদাওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে এ কথা কমবেশি প্রযোজ্য। রাঁধাবাড়া ও খানাপিনার মধ্যে যত নৈমিত্তিকতাই প্রকাশিত হোক, তাদের সর্বময়তার মধ্যেও তারা ইতিহাসবিদের কাছে খানিক অধরা হয়ে থাকে। অথচ, আদতে খাওয়াদাওয়ার মধ্যে বিধৃত সংযোগ আর আদানপ্রদানেরই ইতিহাস। খাদ্যাভ্যাসের বিচারে দেখব, ভারতীয় সংস্কৃতি নির্দ্বিধায় এবং নির্বিচারে তার খাবারদাবার এবং রন্ধনশৈলী গ্রহণ করেছে দুনিয়ার হরেক প্রান্ত থেকে। সেই ঋণ বস্তুতই পরিব্যাপ্ত এবং অপরিশোধ্য। যোগাযোগ ও আদানপ্রদানের এই অনুষঙ্গটিকে পরিস্ফুট করে তোলার তাগিদ থেকেই সঞ্জাত এ বই। এর মধ্যে যেমন আছে বাঙালির রান্নাঘরের হরেক বৃত্তান্ত, নিরামিষ ও আমিষ খাদ্যশৈলীর বিবর্তনের সামাজিক ইতিহাস, বা মিষ্টান্ন-সংস্কৃতির বিপুল বৈচিত্র্য, তেমনই আছে হেঁশেলে ঘটি-বাঙালের লড়াই, রেলের কামরায় বা বিদেশ-বিভুঁইয়ে খাওয়াদাওয়া, বা বাংলায় রেস্টোর্যান্ট-সংস্কৃতির বিবর্তনের এক বর্ণময় আলেখ্য। আর তার সঙ্গে নিম্নবর্গের প্রান্তিক মানুষের খাওয়াদাওয়া, বা বিশ্ব-উষ্ণায়নের যুগে বাঙালির খাদ্য-দর্শনও। সব মিলিয়ে, তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করার এক স্বাদু, কিন্তু অনাস্বাদিতপূর্ব ইতিহাস।





Reviews
There are no reviews yet.