Description
ভারতীয় সমাজে নিষ্ঠুর সতীদাহ কীভাবে এল? সতীপ্রথার উৎস ও বিবর্তনের ইতিহাস অনুসন্ধান করলে সুপ্রাচীন ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত সহমরণ রীতির কথা উঠে আসে। নারীর পাতিব্ৰত্যই কি এই অশ্বারোহণ-সহমরণ বা অনুমরণের একমাত্র কারণ? মুখ্যত পুরাণগুলিতে এবং ধর্মশাস্ত্রের টীকা, ভাষ্য ও নিবন্ধে স্পষ্ট করেই পাতিব্ৰত্য ও স্বামীর সঙ্গে বিধবার চিতা আরোহণকে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। সতীদাহ বা সতীপ্রথা নাম পরের যুগে এসেছে। সুব্রতা সেনের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘সতীপ্রথা ও পণপ্রথা: উৎস ও বিবর্তনের সন্ধানে’ নিঃসন্দেহে এক পরিশ্রমী প্রয়াস। দশটি অধ্যায়ে সতীপ্রথার উৎস ও বিবর্তনের কথা তিনি তুলে ধরেছেন, যেখানে প্রাচীন জাতিসমূহে সহমরণ-প্রথা বা ধর্মশাস্ত্রে টীকা, ভাষ্য ও নিবন্ধে সতীপ্রথার পাশাপাশি সতীদাহ অনুষ্ঠানপদ্ধতি বা সতীপ্রথার প্রতিবাদ চমৎকারভাবে আলোচিত। বর্তমান ভারতীয় সমাজে দেখা যায় বরপণের প্রাদুর্ভাব। প্রাচীন সমাজে ছিল কন্যাপণের প্রচলন। পণপ্রথার উৎস ও বিবর্তনের কথা লেখক তুলে ধরেছেন সাতটি অধ্যায়ে। প্রাচীন ভারতে ক্ৰয়াত্মক বিবাহের ইতিহাস ও জনপ্রিয়তার পরিচয়দানের পাশেই আছে আধুনিক পণ আইন ও ধর্মশাস্ত্রের কথাও। অপপ্রথা সতীদাহ ও পণপ্রথা বিষয়ে এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ বাংলা ভাষায় প্রকৃতই দুর্লভ।





Reviews
There are no reviews yet.