Description
রবিজীবনী-প্রণেতা প্রশান্তকুমার পালের অকালপ্রয়াণে দীর্ঘকাল রবিজীবনী দশম খণ্ড প্রকাশ সম্ভব হয়নি। সেই ব্যাঘাত উত্তীর্ণ হয়ে রবিজীবনী দশম খণ্ড(১৩৩৩-৩৫/ 1926-29) প্রকাশিত হল। এই পর্বে বিশ্বযাত্রী রবীন্দ্রনাথের অনেকটা সময়ই ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রণ রক্ষায় ব্যয়িত হয়েছিল। এসেছিলেন বন্ধুদের আমন্ত্রণ রক্ষার তাগিদে, যা রূপান্তরিত হয়ে গেল শাসক মুসোলিনির আমন্ত্রণের বাধ্যবাধকতায়। বিশ্ব জুড়ে প্রশ্ন ও সমালোচনার ঝড় উঠল। তবে ইউরোপের অন্যান্য অনেক দেশেই রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে আগ্রহ ও কৌতূহলের শেষ ছিল না। যে ধারাবাহিক ভ্রমণবিবরণ সফরসঙ্গী প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ প্রেরণ করছিলেন বিশ্বভারতী মুখপত্রের জন্য তা যথাযথ প্রকাশ কোনও অজ্ঞাত কারণে বিঘ্নিত হয়েছিল। তার ফলে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের ধারণা হয়েছিল তাঁর এই উজ্জ্বল সুদীর্ঘ বিদেশ ভ্রমণের কোনও বিবরণই রক্ষিত হল না। এই দীর্ঘ ভ্রমণে পুরানো বন্ধুদের সঙ্গেও যেমন দেখা হল তেমনই বিশ্বখ্যাত অনেক নতুন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয় হল। বারবার অসুস্থ হয়েও পড়ছিলেন। এরই মধ্যে হাঙ্গেরিতে চিকিৎসাকালে কবি হস্তাক্ষরে প্রকাশিত লেখন এবং বৈকালী–র সূচনা। পরের গ্রীষ্মে শিলং পাহাড়ে যোগাযোগ উপন্যাস রচনায় নিমগ্ন কবি তড়িঘড়ি কলকাতায় ফিরলেন দীর্ঘলালিত সংকল্প পূর্বভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে ভারতের পূর্বযোগসূত্র পুনঃস্থাপনের উদ্দেশ্যে। সে যাত্রার বিবরণও সুদীর্ঘ এবং বিচিত্র। তখন আধুনিক বাংলাসাহিত্যে নবীন লেখকদের রচনা অশ্লীলতার দায়ে সমালোচিত। দেশে ফিরে দু’-পক্ষকে নিয়ে বিচারকের আসনে রবীন্দ্রনাথকেই বসতে হল। হিবার্ট লেকচার দেওয়ার জন্য রওনা হয়েও সিংহল থেকেই ফিরলেন। ইতিমধ্যে যোগাযোগ-এর সমান্তরালে শেষের কবিতা লেখাও শেষ করেছিলেন। কলকাতায় চিকিৎসাকালীন অবস্থানে মহুয়া-র রচনা শুরু।





Reviews
There are no reviews yet.